তাও তে চিং থেকে ৫টি কবিতা

পদ্য-১

যে পথে হাঁটা হয় তাই পথ নয়
যে নামে ডাকা হয় তাই নাম নয়
নাম আর নামহীন দুটিই তাও

নামহীন হল সব কিছুর উৎস
আর নাম হল সব কিছুর সূচনা

বাসনা মুক্ত হলে অনুভব করবে এর রহস্য
আর বাসনায় আচ্ছন্ন হলে অনুভব করবে শুধু বাসনা

রহস্য আর বাসনার উৎস একই
উৎসের নাম অাঁধার

আঁধারের মাঝে আঁধার, সকল জ্ঞানের সূচনা।

পদ্য-২

সবাই সৌন্দর্য্য ভালবাসে, কদর্যতা আছে বলেই
সবাই মহত্ব ভালবাসে, পাপ আছে বলেই
জীবন আর মৃত্যু একই সুতোয় গাঁথা।
জটিল আর সরল,
বড় আর ছোট,
উঁচু আর নিচু – সবই সমভাবে বাঁধা।
শব্দ আর নীরবতা একে অপরের সাথে মিশে যায়
আদি আর অন্তের মত অচিন সীমানায়।

জ্ঞানী সবই করে কিছু না করেই
শেখায় সবই কিছু না বলেই
যারা বড় হতে চায় তিনি বড় করেন
যারা বিলীন হতে চায়, তিনি তাই করেন
সে দিয়ে যায়, ফেরতের আশায় নয়
সে পরিশ্রম করে, উপহারের আশায় নয়
সে কাজ করে, ফলের আশায় নয়
নিজের জন্য সে কিছুই গড়েনা, এই খরস্রোতা সময়ের ভুবনে
তাই সময় তাকে বিলীন করতে পারে না, চিরস্থায়ী সকল সময়ে।

পদ্য-৩

যদি মানুষের কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা হয়,
তাদের মন শক্তি হারায়।
যদি সব তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়,
তারা অসৎ পথে যায়।

জ্ঞানী তা চায়না,
তার নেতৃত্ব মনকে করে প্রসারিত।
তাদের দেহ-মনের চাহিদা মিটিয়ে,
ভোগের বাসনা দমন করে,
আর মিথ্যাকে ধ্বংস করে, সুবাসে সুরভিত।
তার সাহায্যে হৃদয় সকলের সাথে মিলিয়ে যায়,
মানুষ জানতে পারে, তাদের মন কি চায়।
আর তারা দ্বিধায় ভুগে, যারা ভাবে সবই জানে।

সে মানুষকে ভোগমুক্তির পথ দেখায়।
যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট হতে বলে।
মানুষের হৃদয় যখন সততায় পূর্ণ হয়, কে তাদের বিপথে নিতে পারে?
আর কোন চেতনাই বা তাদের ছাইয়ের গাদায় ছুড়ে ফেলে?
যখন কেউ সঠিক পথে যায়, নিজেকে সবার সাথে মিশিয়ে,
হৃদয় খুঁজে পায় তার সর্বোত্তম স্থান।

পদ্য-৪

তাওকে মনে হয় শূন্যতা কিন্তু পূর্ণ করে অফুরন্ত পাত্র
তাওকে দেখা যায়না, কিন্তু এর আভায় আলোকিত হয় মহাবিশ্বের সর্বত্র
এর আবেশে তীক্ষ্ন হতে পারে ভোঁতা আর শক্ত বাঁধন হতে পারে আলগা,
সূর্যকে ঢেকে দেয় তরল মেঘ, ধূলোকে করে একত্র।

অপার গভীর, নিখুঁত পবিত্র, স্থায়ী
এমনি থাকবে অনন্তকাল, অসীম সময়, চিরস্থায়ী
আমি জানিনা এটা কোথেকে এলো
তবে ঈশ্বরের চেয়েও প্রাচীন।

পদ্য-৫

তাও কখনো পক্ষপাত করে না,
এখানে ভালো আর মন্দ দুটিই সমান।
জ্ঞানী কারো পক্ষ নেয় না,
সাধু আর পাপী দুজনকেই স্বাগত জানায়।

তাও অনেকটা হাপরের মত,
এটা খালি তবে এটা অসীম ধারণ সম্পন্ন।
যত বেশি এটা ব্যবহার করবে, তত বেশি ফল পাবে।
যত বেশি এটা নিয়ে কথা বলবে, তত কম বুঝতে পারবে।

হৃদয়ে স্থাপন করো।

মূল – Tao te ching by Lao-Tzu


প্রত্যুত্তর দিন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *