কতোগুলো নক্ষত্র আছে?

 

এক ঝকঝকে রাতের আকাশ, শহরের আলোর বাইরে পুরো নক্ষত্র খচিত থাকে। এগুলো এতো বেশি যে, গোণার কথা ভাবাও যায় না, তাই না?

যদি খালি চোখে দেখা প্রতিটি তারাকে বালির একেকটি দানা হিসেবে ভেবে নেই তবে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৯,০৯৬ । হ্যাঁ, এতোগুলো। এসব সেই সকল উজ্জ্বল নক্ষত্র যা পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপ ছাড়াই দেখা যায়।

তবে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৯,০৯৬ । হ্যাঁ, এতোগুলো। এসব সেই সকল উজ্জ্বল নক্ষত্র যা পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপ ছাড়াই দেখা যায়।
তবে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৯,০৯৬ । হ্যাঁ, এতোগুলো। এসব সেই সকল উজ্জ্বল নক্ষত্র যা পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপ ছাড়াই দেখা যায়।

এর একটি হল Antares (এন্টারিস)। একে +1 ( ধনাত্মক ১ ) বলাই ঠিক, এ হল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ঔজ্জ্বল্য পরিমাপের স্কেল।

সুর্য আছে -27 ( ঋণাত্মক ২৭ ) এ।

পূর্নিমার চাঁদ -13 ( ঋণাত্মক ১৩ ) তে আছে।

 এ হল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ঔজ্জ্বল্য পরিমাপের স্কেল।
এ হল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ঔজ্জ্বল্য পরিমাপের স্কেল।

এমনকি পৃথিবীর অন্ধকারতম স্থান, যেমন চিলি’র Atacama (অ্যাট্টাকামা) মরুভূমিতে আমাদের চোখ শুধুমাত্র ৬.৫ magnitude ও এর অধিক উজ্জ্বলতাই ধরতে পারে।

কিন্তু আরও বড় চোখ দিয়ে কীরকম দেখা যাবে? দেখতে পাবো অনেক কিছু।

Andromeda (অ্যান্ড্রোমিডা) হল আমাদের আকাশগঙ্গা’র সবথেকে কাছের প্রধান ছায়াপথ। আর এটি নক্ষত্রে একদম পরিপুর্ন।

পৃথিবী এর সবদিক থেকে ৩৬০ ডিগ্রী স্থান দিয়ে বেষ্টিত আছে। তো, এর ১ ডিগ্রীর এক বৃত্তচাপ(arc) নাও,৬০ দিয়ে ভাগ কর, তাহলে পাবে ১ কৌণিক মিনিট (arcminutes)।

যদি এটি আরও উজ্জ্বল হত, তবে অ্যান্ড্রোমিডাকে আমাদের চাঁদের মতই উজ্জ্বল ও এর পাশেই দেখাতো।
যদি এটি আরও উজ্জ্বল হত, তবে অ্যান্ড্রোমিডাকে আমাদের চাঁদের মতই উজ্জ্বল ও এর পাশেই দেখাতো।

এ হল হাবল টেলিস্কোপের তোলা ১শ’ পঞ্চাশ কোটি পিক্সেলের এক ছবি যা তোলা হয়েছে এক হাজার বর্গ কৌণিক মিনিট থেকে।
আর এটি ১০ কোটিরও অধিক নক্ষত্রে ভরা। একটু ভালোভাবে দেখলে বোঝা যাবে যে যদি এটি আরও উজ্জ্বল হত, তবে অ্যান্ড্রোমিডাকে আমাদের চাঁদের মতই উজ্জ্বল ও এর পাশেই দেখাতো।

কিন্তু ১০ কোটি তারার সন্ধানে আমাদের ঐ অতো বড় পরিসরে তাকাবার দরকার নেই। আকাশের এক অতি সামান্য টুকরোর দিকে ভালো করে তাকানোটাই যথেষ্ট হবে।

হাবল টেলিস্কোপ এই এক ফালি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। এর ঢাকনা খোলা ছিল ২০ লক্ষ সেকেন্ডের ধরে।
হাবল টেলিস্কোপ এই এক ফালি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। এর ঢাকনা খোলা ছিল ২০ লক্ষ সেকেন্ডের ধরে।

হাবল টেলিস্কোপ এই এক ফালি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। এর ঢাকনা খোলা ছিল ২০ লক্ষ সেকেন্ডের ধরে। এবং ঐটুকুর মধ্যে আমাদের কাছে আপাতদৃষ্টিতে ফাঁকা মনে হওয়া আকাশের ঐ কোণে, না, নক্ষত্র নয়, বরং হাজার হাজার ছায়াপথ উঁকি মারছিলো। এর কিছু আবার ১৩শ’ ২০ কোটি বছরের পুরনো।

আলোক কণা (ফোটন) নির্গত হয় মহাবিশ্বের প্রায় শুরুর দিকে।

এ ছবিতে যে যে হালকা জিনিসগুলি দেখাচ্ছে তা আসলে আমাদের সাধারণ দৃষ্টিতে এর থেকে ১ হাজার কোটি গুন কম উজ্জ্বল। অর্থাৎ আমাদের খালি চোখে দেখা অসম্ভব।

পুরো আকাশ ভরাট করতে হাবলের চরম সূক্ষ্মতর ৩ কোটি বর্গক্ষেত্রের দরকার হবে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা এই যে, পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে প্রায় ২০ হাজার কোটি ছায়াপথ আছে। যদি আমরা নক্ষত্রের বদলে প্রতিটি ছায়াপথকে একেকটি বালুর দানা হিসেবে ধরে নেই, তবে তা দিয়ে ২৭ ঘনমিটারের এক ঘনক তৈরি করা যায়!

তা দিয়ে ২৭ ঘনমিটারের এক ঘনক তৈরি করা যায়!
তা দিয়ে ২৭ ঘনমিটারের এক ঘনক তৈরি করা যায়!

প্রশ্ন হল, কতোগুলো নক্ষত্র আছে?

1 septillion
1 septillion

হয়তো 1 septillion (এক সেপ্ট্যালিয়ন), সংখ্যাটা এতো বিশাল, যে এর কোন মানেই হয় না। তবে একটা কথা ঠিক যে, পৃথিবীতে ঐ সকল বালুকে ধরে রাখার জন্য অতো সৈকত নেই।

কার্ল সেগান বলেছেন, "পৃথিবী হল মহাজাগতিক মহাসাগরের এক সৈকত"
কার্ল সেগান বলেছেন, “পৃথিবী হল মহাজাগতিক মহাসাগরের এক সৈকত”

কার্ল সেগান বলেছেন,

“পৃথিবী হল মহাজাগতিক মহাসাগরের এক সৈকত”

…তাই মনে রেখো, প্রতি রাতে আমরা যখন তারায় ভরা আকাশের দিকে খালি চোখে তাকাই, আমরা শুধু এর এক চিমটি বালু নিয়েই পড়ে থাকি।

কৌতূহলী থেকো।

প্রত্যুত্তর দিন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *