কোলরিজের কবিতা: বুড়ো নাবিকের গান (প্রথমাংশ)

কোলরিজের কবিতা: বুড়ো নাবিকের গান (প্রথমাংশ)

ভূমিকা ইংরেজ রোমান্টিক কবি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ তাঁর এই কবিতা “দ্যা রাইম অব দ্যা এইনশানট মেরিনার” এর জন্য সুবিখ্যাত। কবিতাটা মূলত কাহিনী নির্ভর। প্রশান্ত মহাসাগরে প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে, অদ্ভুত সব ঘটনা আর এডবেঞ্চারের পর কিভাবে মধ্য দিয়ে বৃদ্ধ নাবিক দেশে ফিরে আসে সেই লোমহর্ষক ভূতুড়ে কাহিনী বুড়ো লোকটি মানুষকে ধরে বসিয়ে শোনায়। একবার, দুইবার,…

নকশা – রবার্ট ফ্রস্টের ‘ডিজাইন’ কবিতার অনুবাদ

নকশা – রবার্ট ফ্রস্টের ‘ডিজাইন’ কবিতার অনুবাদ

টোলপড়া এক মাকড়সা দেখি, হোঁৎকা এবং সাদা, মথ একটা মুখে ধরে বসা সাদা হিল-অল* ফুলে, মথটাও সাদা, দৃঢ় রেশমের মতো যেন তুলতুলে– মৃত্যু ও মড়কের হরেক চরিত্রের এই মিশ্রণ যেন সদা। প্রস্তুত নিতে ব’রে প্রভাতটাকে দিয়ে উপযুক্ত মর্যাদা, ডাইনীদের রাঁধা তরল খাবারের মতো সব একত্রে গেছে গুলে– তুষার-শুভ্র এক মাকড়সা, এক ফেনার মতো ফুলে, আর…

প্রদীপটা যখন চূর্ণবিচূর্ণ

প্রদীপটা যখন চূর্ণবিচূর্ণ

প্রদীপটা যখন চূর্ণ-বিচূর্ণ, ধুলোয় পতিত আলোটা তখন শুয়ে থাকে মৃতের মত; মেঘগুলো যখন বিক্ষিপ্ত, রংধনুর উজ্জ্বল রঙ্গই তখন শেষ আশ্রয়; বাঁশিটা যখন ভাঙ্গা, তখন কেউ মনে রাখে না তার মধুর সুর; অধরে যখন কথা ফোটে, তখন মনে থাকে না কোনো প্রেমালাপ। বাঁশি নয়, বাতি নয়, টিকে থাকে সুর, বেঁচে থাকে সৌন্দর্য; আত্মাটা যখন বোবা হয়ে…

ফের

ফের

চোখ রগড়ে ব-ড় করে তাকিয়েও দেখতে না পাওয়া দৃঢ় সূত্র এক। তুমি আমার সেই প্রথম দিনের হাওয়া… পর্বতমালা দুভাগ করে, সমুদ্রের বুক চিরে – আমারই কাছে এলে! – কিম জি হন মূলঃ 인연 (Destiny)

দেখতে নাও যদি পাই

দেখতে নাও যদি পাই

  বাতাস – দেখতে নাও যদি পাই, ঘাসে দোলা দিয়ে যাবে। ঝড় – দেখতে নাও যদি পাই, গাছে দোলা দিয়ে যাবে। তোমায় দেখতে নাও যদি পাই, আমায় দোলা দিয়ে যাবে। দেখতে পাই না যাকে, সকল দেখার চেয়ে সে অনেক বেশি শক্তি ধরে। মূলঃ 보이지 않아도 (What can’t be seen) [কবির নাম পাওয়া যায় নি। কবিতাটি…

ভালোবাসা, দূরভাষে……

ভালোবাসা, দূরভাষে……

ওখানে বৃষ্টি হচ্ছে বলছো? এখানে রোদ ঝলমল। তোমার দুঃখ একটু…একটু করে শুকিয়ে আসে। আমি, আস্তে আস্তে ভিজে উঠি। – মুন ইন সু মূলঃ 사랑, 오래 통화 중인 것 (Love: Making a Long Distance Phone Call)

তবুও আমি জেগে উঠি…

তবুও আমি জেগে উঠি…

তুমি হয়তো ইতিহাস লিখবে আমাকে নিয়ে তোমার তিক্ত, মুখরোচক মিথ্যাক্ষরে। হয়তো তুমি আমায় পুঁতে ফেলবে মাটির খুব, খুব গভীরে। তবুও আমি জেগে উঠবো, ধুলোর মতই। আমার এই রুক্ষতায় কি তুমি মর্মাহত? কেন তুমি বিষাদে ডুবে যাচ্ছ? কারণ আমি আত্মবিশ্বাসে হেঁটে বেড়াই যেন মূল্যবান তৈল খনি পেয়েছি আমার নিজের ঘরেই! আমি জেগে উঠবো সূর্যের মত, চন্দ্রের মত,…

হে বসন্ত! – উইলিয়াম ব্লেইকের কবিতা

হে বসন্ত! – উইলিয়াম ব্লেইকের কবিতা

হে বসন্ত! তোমার ঐ শিশিরসিক্ত কেশ! তুমি সকালের পরিষ্কার জানালা দিয়ে চোখ ফেলো নিচে, এখানে। তোমার ঐশ্বরিক চোখ ঘুরাও আমাদের পশ্চিম দ্বীপটায়, যেখানে পুরো গানের দল তোমাকে উৎযাপনের তরে ছোটে, হে বসন্ত! পাহাড় গুলো কথা বলে একে অন্যের সাথে। উপত্যকারা কান পেতে শুনে। আমাদের আকাঙ্ক্ষায় ভরা চোখগুলো তাকিয়ে থাকে তোমার উজ্জ্বল প্যভিলিয়নের দিকেঃ সামনে এসো…

ভালোবাসার পরের ভালোবাসা — ডেরেক ওয়ালকট

ভালোবাসার পরের ভালোবাসা — ডেরেক ওয়ালকট

সময় আসবে যখন বিশুদ্ধ আনন্দে উচ্ছসিত তুমি নিজেকে আলিঙ্গন করবে নিজের দরজায়, নিজের আয়নায় এবং তুমি আর ‘তুমি’ দুজনের ঠোঁটের কোণেই ফুটে উঠবে মুচকি হাসি, আলিঙ্গনে। এবং যা বলার আছে বলো, বসো এখানে, খেয়ে নাও। তুমি আবারো ভালবাসবে সেই আগন্তুককে, আগন্তুক তোমারই ছদ্মবেশ। কাছে ডাকো তাকে। পানাহার করাও। সর্বোপরি হৃদয়টা তাকে ফেরত দাও যাকে ভালবেসে এসেছো…

মস্তিষ্কে অনুভূত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

মস্তিষ্কে অনুভূত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

মরি তো প্রতিদিনই, প্রতি মুহূর্তে। আশা মরে, স্বপ্ন মরে, মরণ নিজেও মরে। সেদিনও মরেছিলাম। মস্তিষ্কে অনুভুত হয়েছিল একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ছিল শোকার্তরা, দ্বিধান্বিত। তাদের পদধ্বনি অবিরাম মাড়িয়ে যাচ্ছিলো অনুভূতি ছেদনের আগ পর্যন্ত। যখন সবাই উপবিষ্ট একটা অনুষ্ঠান, ড্রামের মত বেজে যাচ্ছিলো মন অসাড় হওয়ার আগ পর্যন্ত। তারপর শুনতে পেলাম বাক্স উত্তোলনের কড়কড় শব্দ। সেই একই বুট জুতা…